Summary
ক্ষুধার রাজ্যে মানুষের অভিজ্ঞতা: ক্ষুধার্ত মানুষের একমাত্র চাহিদা হলো খাদ্য, যা তার জীবনের প্রধান মৌলিক চাহিদা। খাদ্যের অভাব মানুষের সকল চিন্তা ও অনুভূতিকে প্রবাহিত করে শুধুমাত্র ক্ষুন্নিবৃত্তির দিকে।
প্রধান পয়েন্টসমূহ:
- ক্ষুধা হচ্ছে মানুষের প্রাকৃতিক চাহিদা, যা বাঁচার জন্য অপরিহার্য।
- ক্ষুধা নিবৃত্তির পরই মানুষ অন্যান্য মৌলিক চাহিদার চিন্তা করতে পারে।
- প্রতিকূল অবস্থায়, যেমন দুর্ভিক্ষ, মানুষের কাছে জীবনযাপনের সৌন্দর্য অপ্রয়োজনীয় মনে হয়।
- একজন ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সৌন্দর্য এবং কাব্যের গুরুত্ব নেই; তার জন্য প্রয়োজন খাদ্য।
সারাংশে, ক্ষুধা মানব জীবনের অন্যতম প্রধান প্রভাবক, যা সৌন্দর্য এবং অন্যান্য চাহিদার দিকে নজর দিতে দেয় না।
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়; পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।
ভাব-সম্প্রসারণ: ক্ষুধার্ত মানুষের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ক্ষুন্নিবৃত্তি। সব কিছুর মধ্যেই সে ক্ষুধা নিবৃত্তির কথা ভাবে। তখন কোনো কিছু সুন্দর কি অসুন্দর, তা তাকে ভাবায় না।
প্রত্যেক মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কতগুলো মৌলিক চাহিদা রয়েছে। খাদ্য হলো এর মধ্যে প্রধান মৌলিক চাহিদা। খাদ্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। মানুষের শরীরে তৈরি হওয়া এই খাদ্যের চাহিদারই অপর নাম ক্ষুধা। ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য মানুষ সব কিছু করতে পারে। মানুষ যে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে, তার পেছনে এই ক্ষুন্নিবৃত্তিই মূল চালিকাশক্তি। ক্ষুধা নিবৃত্ত হওয়ার পরেই মানুষ অন্যান্য মৌলিক চাহিদার কথা ভাবে। বাসস্থানের কথা ভাবে, পোশাকের কথা ভাবে, স্বাস্থ্যের কথা ভাবে। সুন্দর-অসুন্দরের কথা ভাবে একেবারে শেষ পর্যায়ে। তাই ক্ষুধা যখন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তখন সৌন্দর্যের মূল্য তার কাছে থাকে না। একজন সুখী মানুষের কাছে পৃথিবীকে সুন্দর মনে হতে পারে। কিন্তু ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে তা নাও হতে পারে। অতীতে প্রায়ই দুর্ভিক্ষ দেখা দিত। হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মারা যেত। সামান্য দুটো রুটির জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষকে সারাদিন পরিশ্রম করতে হতো। সেই দুর্ভিক্ষে একজন শ্রমজীবীর কাছে পূর্ণিমার চাঁদ বড়ো জোর একখানা ঝলসানো রুটির মতো মনে হবে, সেটাই স্বাভাবিক।
ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৃথিবীর সৌন্দর্য কোনো তাৎপর্য বহন করে না। ক্ষুধা নিবারণের জন্য তার সবচেয়ে আগে দরকার খাদ্য। গদ্যের কাঠিন্যটুকু সে ভালো উপলব্ধি করতে পারে; কাব্যের কোমলতা তার কাছে অর্থহীন।
Read more